

ডেস্ক রিপোর্ট -:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত অসহযোগিতা,দুর্নীতি এবং পক্ষপাতিত্বের জোরালো অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল দাখিলের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করে হুসাইন আহমেদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে একটি চিঠি লিখেছেন, যাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারমূলক লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সুনামগঞ্জ জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, আর ২৬ জনেরটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদের মনোনয়ন ১% ভোটার সমর্থন স্বাক্ষরে অসঙ্গতির অভিযোগে বাতিল করা হয়। তবে হুসাইন আহমেদ দাবি করেছেন,রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ) কর্তৃক এই বাতিল আদেশে বিস্তারিত যাচাই রিপোর্ট বা ভোটার তথ্য অনুপস্থিত, যা আপিল প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। “এটি শুধুমাত্র আমার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে না, বরং নির্বাচনের সুষ্ঠুতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে”বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণে হুসাইন আহমেদ উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো.আনোয়ার হোসেনের মনোনয়ন চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। আবেদন গ্রহণ করা হয়নি,ফোন ধরা হয়নি এবং তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। এছাড়া,আসনটিতে শুধুমাত্র একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ রাখা হয়েছে,যখন অন্য সকল স্বতন্ত্র প্রার্থীরটি বাতিল করা হয়েছে। “দৈবচয়ন পদ্ধতির প্রয়োগ শুধুমাত্র বাতিলকৃত প্রার্থীদের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু বৈধ প্রার্থীর জন্য কোনো কথা নেই—এটি স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব,” বলে অভিযোগ করেছেন হুসাইন আহমেদ। এই ঘটনা আঞ্চলিক ও জাতীয় মিডিয়ায় লাইভ প্রচারিত হয়েছে,
জাতীয় পর্যায়ে এই অভিযোগের প্রভাব গুরুতর।যা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে প্রায় ২৮% প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি অসম আচরণের দাবি করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নির্বাচনী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও এমন অভিযোগ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
হুসাইন আহমেদের দাবিতে রয়েছে: রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত,শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (সাসপেনশন বা অপসারণ),এবং প্রয়োজনীয় তথ্য অবিলম্বে প্রদান। চিঠির অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টা, অ্যান্টি-করাপশন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা সুনামগঞ্জের নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং জাতীয়ভাবে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিকে জোরালো করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অভিযোগের তদন্ত না হলে ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
(আরও আপডেটের জন্য থাকুন আমাদের সাথে।)
আপনার মতামত লিখুন :