

স্বপন কুমার বর্মন বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যলয় থেকে গত রবিবার(২১সেপ্টেম্বর) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার এমদাদুল হক মিলনকে জেলার মাধ্যমিক শিক্ষক পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার স্বীকৃতি হিসাবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সোনাপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃতি সন্তান এমদাদুল হক মিলন সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক-২০২৬’নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এ অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক,শিক্ষক-সহকর্মী,পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মাঝে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন এমদাদুল হক মিলন । ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানকে সহজ,কার্যকর ও আনন্দময় করতে তাঁর ভিন্নধর্মী ও উদ্ভাবনী পাঠদান পদ্ধতি,শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ এবং নিয়মিত মূল্যায়ন কার্যক্রম প্রশংসিত হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা,শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। শিক্ষার্থীদের সহজভাবে ইংরেজি শেখার জন্য তাঁর রচিত ডাইনামিক ইংলিশ গ্রামার এবং সহজভাবে ইংরেজি বলার জন্য ডাইনামিক স্পোকেন ইংলিশ বই রচনা করেন যা বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশনি কতৃক অনুমদিত। এছাও তিনি প্রফেশনাল ও শিক্ষার্থীদের পরামর্শ লেখনি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর একটি প্রবন্ধ লন্ডন থেকেও প্রকাশিত হয়। করুণা মহামারী সময় যখন সারা বাংলাদেশের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল তখন তিনি অনলাইনে প্রায় একশত ক্লাস পরিচালনা করেন যার স্বীকৃতিস্বরুপ উপজেলা ও জেলা প্রশাসন কতৃক পুরুষ্কার প্রাপ্ত হন। শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিল স্কুল কোঅর্ডিনেট হিসেবে কাজ করেন সফলতার সাথে দেশে বিদেশে স্কুলের সাথে কানেক্টিং ক্লাসরুম পরিচালনা জন্য আন্তর্জাতিক স্কুল অ্যাওয়ার্ডে ঘোষিত হন,তিনি ব্রিটিশ হাই কমিশনারের কাছ থেকে উক্ত পুরস্কার গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি ২০২২ সালের বন্যা সময় বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাঁকে,এতে বেলটা সিলেট চ্যাপ্টার এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে তিনি এলাকার দোস্ত অসহায় এর মাঝে প্রাণ বিতরণ ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক সামাজিক সংগঠন রোটারেক্ট ইন্টারন্যাশনাল এবং স্থানীয় অনেক গুলো সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে তিনি তাঁর নিজ এলাকা এবং কর্মস্থল এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। সামাজিক প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল,মসজিদ,মাদ্রাসা,ঈদগাহ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমদাদুল হক মিলন বলেন এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আশা করি আমার বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ,সামাজিক শুভাকাঙ্ক্ষী, শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতায় আমি শিক্ষাক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চাই। আশা করি অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও আমি সবার সহযোগিতা মাধ্যমে মানসম্মত পাঠদান প্রদানের জন্য সর্বদাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
আপনার মতামত লিখুন :