১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সংবাদ শিরোনামঃ
অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ৫ম পর্যায়ের ২য় ধাপে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে চপল পুনরায় জয়ী।  তাহিরপুরে দুপুর গড়ালেও খোলা হয়নি বিদ্যালয়ের তালা সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন সহকারী শিক্ষক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঃ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর খোকন ও মহিলা ভাইস আইরিন বিজয়ী তাহিরপুরে ৯৮ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড,আতাউল গনি সাবেক এমপি নজির হোসেনের মৃত্যু সবাই সচেতন থাকলে দেশ এগিয়ে যাবেই- তথ্য কমিশনার প্রকৃতির সঙ্গে যারা অপকর্ম করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে–সুলতানা কামাল সুনামগঞ্জ -১ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন রনজিত সরকার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা  ইউ এন ও এর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়।  বিশ্বম্ভরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত নানান কর্মসূচিতে তাহিরপুরে বিজয় দিবস পালিত সুনামগঞ্জে বাউল কামাল পাশার ১২২তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাহিরপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত যাদুকাটা নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ সুনামগঞ্জে পুলিশ বিএনপির সংঘর্ষ ৭ পুলিশ ২ সংবাদ কর্মী সহ আহত অর্ধশতাধিক,আটক  বেশ কজন।  সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শিশু শিল্পী পেয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখেনা বলেই ক্ষমতায় যেতে আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে বিএনপি জামাত — এম এ মান্নান এমপি 
শাল্লায় স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু

শাল্লায় স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু

সন্দীপন তালুকদার সুজন,শাল্লা

সুনামগঞ্জের শাল্লায় উপজেলার স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সেলিনা আক্তারকে দুর্নীতিতে ফাঁসাতে মরিয়া ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের কিছু অসাধু লোক। এযেন ঘরের শত্রু বিভীষণ। বিগত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শাল্লায় স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডাঃ সেলিনা আক্তার। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানো,অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে কঠোর হোন তিনি। মেডিকেলের ডাক্তার,নার্সসহ অন্যান্য কর্মচারীরা সঠিকভাবে দায়িত্বপালন করছেন কিনা তাও সার্বক্ষণিক তদারকি করেন ডাঃ সেলিনা আক্তার। ডাক্তার ও নার্সদের আবাসিক ভবনের জন্য নির্ধারিত ২৫% ভাড়া দেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন ডাঃ সেলিনা আক্তার। ভাড়ার কথা বলায় আরও মনঃক্ষুণ্ণ হয় ওই কর্মকর্তার প্রতি। এরই প্রক্ষিতে স্টাফদের মধ্যে বিভাজনের ফলে দু’টো গ্রুপ তৈর হয়। কিন্তু উপজেলার ৫০শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সম্পূর্ণরূপে শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তিনি, আর তাতেই স্বার্থে আঘাত লাগে কিছু স্বাস্থ্যকর্মীর। মাষ্টার প্ল্যান করেন ডাঃ সেলিনা আক্তারকে দুর্নীতিতে ফাঁসানোর জন্য । প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ভুয়া বিল ভাউচারে কৌশলে নেওয়া হয় ডাঃ সেলিনা আক্তারের স্বাক্ষরও। পরে তা বিভিন্ন সংবাদকর্মীদের কাছে পাঠানো হয়। সংবাদের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে স্থানীয় বাসিন্দারা দুটো গ্রুপকে নিয়ে পাল্টাপাল্টি পক্ষে বিপক্ষে মানববন্ধনও করেন।

এমন ঘটনায় বিভ্রান্ত হন উপজেলার সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনার ঝড়। এসব খবর ভাইরাল হলে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ৩সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সে মোতাবেক বুধবার (২৭ জুলাই) দুপুরে জেলা থেকে তদন্তে আসেন ৩সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।

এবিষয়ে চিকিৎসার জন্য শাল্লা তথা নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলা থেকে আসা ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে দামপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মতিউর রহমান বলেন,আমরা আসা মাত্রই ডাক্তার ও নার্সকে পাইছি এবং তারা চিকিৎসা করেছেন। স্যালাইনের সাথে কিছু ঔষধও দিয়েছেন। সেননগর গ্রামের টেনু মিয়া বলেন, আমরা আইছি পরই ডাক্তার দেখছে।আমারে উপরে তুইল্লা স্যালাইন লাগাইছে। খালিয়াজুড়ি উপজেলার কুতুব গ্রামের এক মহিলা সকালে তার শিশু বাচ্চাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসে বলেন,আমরা আইয়া ওই ডাক্তর পাইছি। এরা আমার রোগীরে ভর্তি দিয়া স্যালাইন লটকাইছে।এই মহিলাকে ডাক্তারের তদারকির কথা বললে, তিনি জানান আমরা এর আগে আরও রোগী লইয়া আইছি ঠিকই কিন্তু অখন দেখা যায় ডাক্তারও (বেইট্টাইন) নার্সরা সবসময় থাকে।একটু পরেপরে দেইক্কা যায়।

ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের আর এন ফার্মেসীর ওষুধ ক্রয়ের ৫০হাজার টাকার দু’টি বিল পাওয়া যায়। তাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে আর এন ফার্মেসীর প্রোপ্রাইটর মনোহর রায় বলেন, এগুলো নকল ভাউচার। কেউ হয়তো আমার ফার্মেসীর ভাউচার প্যাড নকল করে ব্যবহার করেছে। আর এই স্বাক্ষরও তার নিজের না বলে জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সেলিনা আক্তার বলেন আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। ভাউচারগুলো অফিস সহকারী প্রধান তৈরি করেন। আমি শুধু স্বাক্ষর দেই। আমি নতুন এসেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা যাতে সঠিক সেবা পান ও হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমি বদ্ধপরিকর। ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য স্টাফদের ডিউটি সঠিকভাবে পালন করার ক্ষেত্রে আমি একটু কঠোর। অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার কঠোর অবস্থান। আমার অপরাধ মনে হয় এখানেই। বিল ভাউচারে কোন অনিয়ম হলে জবাব দিবেন অফিস সহকারী প্রধান নিশিকান্ত তালুকদার। কোনটা আসল কোনটা নকল সেটা তিনি জানেন। কেননা, বিল ভাউচার তৈরি করেন নিশিকান্ত তালুকদার। নিজের সুবিধা মত ডরমিটরিতে বসবাস করতে চেয়েছিলেন তিনি। সেখানে আমার দু’জন গর্ভবতী নার্স থাকেন। আমি উনাকে বললে তিনি তখন ভীষণ ক্ষেপে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স বলেছেন হ্যাঁ, নিশিকান্ত তালুকদার আমাকেও হুমকি দিয়েছেন। ডাঃ সেলিনা আক্তার আরও বলেছেন ৩জন সংবাদকর্মী আমার স্টাফের কাছে আমি তাদেরকে ম্যানেজ করার কথা বলেছেন। ওদেরকে ম্যানেজ বলতে আমি টাকাই বুঝি না দিলে নাকি আমার বিরুদ্ধে সংবাদ করবে এমনকি জেল খাটানোরও হুমকি দিয়েছেন তারা। উদ্দ্যেশ্য প্রনোদিত আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। সমাজে আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কোন ব্যবস্থা নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমি চিন্তা ভাবনা করছি।

অফিস সহকারী প্রধান নিশিকান্ত তালুকদারকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, আমি বিল ভাউচার তৈরি করিনি। উপজেলা কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক অসীত বরন দাস বলেন, বিল ভাউচার তৈরি করেন অফিস প্রধান নিশিকান্ত তালুকদার। আমার কাজতো হল মাঠে। নিশিকান্ত তালুকদারের বিরুদ্ধে এরপূর্বেও নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রভাব খাটিয়ে নিজের ভাইকে হাসপাতালে চাকুরী দিয়েছেন। ভুয়া বিল ভাউচারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। এরপরও যুগের পর যুগ নিজ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দাপটের সঙ্গে চাকুরী করছেন তিনি। অনেকই অভিযোগ করে বলেছেন ডাঃ সেলিনা আক্তার নিশিকান্ত তালুকদারকে কিছু দিন আগে সঠিকভাবে কাজ করার জন্য বলেছেন। এতে তিনি একটু রাগান্বিত হয়ে স্যারকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছেন বলে দাবী করেন। আবার এটাও বলেছেন তার নাম কয়েকবার পত্রিকায় আসছে। তবে নিশিকান্ত তালুকদার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বাসা ভাড়া ও ঔষধ কেনা সহ অন্যান্য বিষয়ে জানার জন্য আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) রবিউল আকরামকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

জেলার সিভিল সার্জন আহমেদ হোসেন শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্সে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন পর্যন্ত দুর্নীতির কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সেলিনা আক্তারের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে,তাতে তিনি দুর্নীতিতে যুক্ত যে একথা বলা যাবে না। আগের তুলনায় চিকিৎসা সেবার মানও বেড়েছে উপজেলায়। আমরা খুব চেষ্টা করছি শীগ্রই এখানে সিজারিয়ানের জন্য একটা ব্যবস্থা করার। তবে এখানে প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা ভুল-ত্রুটি হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। আমাদের তদন্ত চলমান, তদন্ত করে যদি কারো অনিয়মের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান সিভিল সার্জন আহমেদ হোসেন।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন





পুরাতন খবর খুঁজুন

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (রাত ৯:০৯)
  • ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি
  • ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)