১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সংবাদ শিরোনামঃ
অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ৫ম পর্যায়ের ২য় ধাপে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে চপল পুনরায় জয়ী।  তাহিরপুরে দুপুর গড়ালেও খোলা হয়নি বিদ্যালয়ের তালা সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন সহকারী শিক্ষক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঃ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর খোকন ও মহিলা ভাইস আইরিন বিজয়ী তাহিরপুরে ৯৮ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড,আতাউল গনি সাবেক এমপি নজির হোসেনের মৃত্যু সবাই সচেতন থাকলে দেশ এগিয়ে যাবেই- তথ্য কমিশনার প্রকৃতির সঙ্গে যারা অপকর্ম করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে–সুলতানা কামাল সুনামগঞ্জ -১ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন রনজিত সরকার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা  ইউ এন ও এর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়।  বিশ্বম্ভরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত নানান কর্মসূচিতে তাহিরপুরে বিজয় দিবস পালিত সুনামগঞ্জে বাউল কামাল পাশার ১২২তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাহিরপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত যাদুকাটা নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ সুনামগঞ্জে পুলিশ বিএনপির সংঘর্ষ ৭ পুলিশ ২ সংবাদ কর্মী সহ আহত অর্ধশতাধিক,আটক  বেশ কজন।  সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শিশু শিল্পী পেয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখেনা বলেই ক্ষমতায় যেতে আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে বিএনপি জামাত — এম এ মান্নান এমপি 
বিস্বম্ভরপুর হাওর বিলাস ও পাহাড় বিলাসে পর্যটকদের ভীড়,বাড়ছে মানুষের জীবন-যাত্রার মান।

বিস্বম্ভরপুর হাওর বিলাস ও পাহাড় বিলাসে পর্যটকদের ভীড়,বাড়ছে মানুষের জীবন-যাত্রার মান।

স্বপন কুমার বর্মন,বিশ্বম্ভরপুর ঃ-
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় হাওর বিলাস,পাহাড় বিলাশ,বোয়াল চত্বর সহ বিভিন্ন স্পটে পর্যটনের বিকাশে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে আয়ের উৎস্য ও সৃষ্টি হচ্ছে, আয় বাড়ছে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবন যাত্রার মান বাড়ছে।
ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত নদী,নালা,হাওর বেষ্টিত জীব বৈচিত্র সমৃদ্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর সুনামগঞ্জ জেলার কাছের উপজেলা বিশ্বম্ভরপুর।

প্রাকৃতিক নানা সুন্দর্য্য থাকা সত্বেও বিগত দিনে সরকারি ভাবে পর্যটনের উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু করা হয়নি।বর্তমান বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃসাদি উর রহিম জাদিদ এর ঐকান্তিক উদ্দ্যেগে,পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে এ উপজেলায় যোগদানের মাত্র ১০ মাস সময়ের মধ্যেই হাওর বিলাস,পাহাড় বিলাস,বোয়াল চত্বর,জয় বাংলা চত্বর,হাওর বৃত্ত,স্মৃতিসৌধ,শহীদ মিনার,রাস্তায় ওয়াক ওয়ে,নিকঞ্জু, হাওর ভিউ ক্যাফে,করচারপাড় মার্কেট স্থাপন সহ কয়েকটি পর্যটন স্পট গড়ে তোলে চারদিকে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন তিনি।

হাওর, নদী নালা বেষ্টিত সীমান্ত উপজেলা বিশ্বম্ভরপুর ২৪৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের জনসংখ্যা এক লাখ ৫৩ হাজার।প্রধান ফসল কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য।

মো. সাদি উর রহিম জাদিদ গত বছরের ১ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে যোগদান করেন।এরপর মুজিব বর্ষের দরিদ্রদের জন্য ঘর তৈরির জমি খোঁজতে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নজরে পড়ে তাঁর।এরপর ওই এলাকায় পর্যটন বিকাশের উদ্যোগ নেন তিনি।

প্রথমে সিমান্তের সলুকাবাদ ইউনিয়নের চ্যাংবিল এলাকার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে আন্তর্জাতিক সীমারেখার পাশে ‘পাহাড় বিলাস’ নামে পর্যটন স্পট গড়ে তোলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুরোধে এলাকার আবু সুফিয়ান নামের একজন পর্যটনের জন্য ১০ শতক জমি সরকারকে দান করেন।সাদা রংয়ের দৃষ্টিনন্দন কাঠের বেড়া দিয়ে পাহাড় বিলাসে পর্যটকদের বসার জন্য ৮টি বেঞ্চ,হালকা খাবারের দুইটি দোকান,ছনের দুইটি গোলঘর নির্মাণ করেন।উক্ত পাহাড় বিলাসটি গত ২৭ মে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ এড. পীর ফজুলুর রহমান মিসবাহ আনুষ্টানিক ভাবে শুভ উদ্ভোধন করেন।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাদি উর রহিম জাদিদ এর পরিক্ল্পনা ও বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠিত পাহাড় বিলাস উদ্ভোধন কালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: সফর উদ্দিন, তৎকালীন উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি স্বজল মোল্লা, সলুকাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী তপন,উপজেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি আব্দুর রহমান,সদস্য সচিব আব্দুল কাদির সহ সর্বস্থরের লোকজন।

উদ্বোধন কালে পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ,এ জেলার অপরূপ সৌন্দর্য্যরে সবাই মুগ্ধ।দেশের বিভন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এসে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার উপর দিয়ে তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে যান, যাদুকাটা নদী, নীলাদ্রিতে গিয়ে সৌন্দর্য্ উপভোগ করেন।কিন্তু কেউ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় থামে না।তবে বিশ্বম্ভরপুরেও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য রয়েছে।এ জন্য আমরা আজ হাওর ও পাহার বিলাস পর্যটন স্পটের উদ্ভোধন করলাম।

তিনি বলেন আমি দেখেছি অনেক পর্যটক এখানে এসে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ ছবি ভাইরাল করে সকলের নজর কেড়েছেন। আমরা যদি এ সমস্থ স্পটকে সমৃদ্ধ করে ঠিকমত তুলে ধরতে পারি তাহলে এলাকার মানুষের ভাগ্যে বদল হয়ে যাবে। উদ্ভোধনের পর থেকেই প্রতিদিনই শতশত পর্যটন প্রেমী মানুষ সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন।


এরপর থেকেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরো নতুন নতুন পর্যটন স্পট নির্মাণের পরিকল্পনা নেন।এর আগে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে উপজলা পরিষদ প্রাঙ্গনে দৃষ্টি নন্দন স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ম্যুরাল স্থাপন করা হয়। তা গত ১৩ মার্চ শুভ উদ্ভোধন করেন সিলেট বিভাগী কমিশনার এনডিসি মো: মশিউর রহমান।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:সাদি উর রহিম জাদিদ এর তত্বাবধানে উপজলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: সফর উদ্দিন সহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।উপজেলা সদরের দৃষ্টি নন্দন স্থানে নির্মিত কেন্দ্রীয় স্মৃতি সৌধটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাদি উর রহিম জাদিদ এর সার্বিক তত্বাবধানে গত ২৭ আগষ্ট তারিখে উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো:তাজ্জত খান, মো: আপ্তাব উদ্দিন ও আব্দুল মান্নান উদ্ভোধন করেন।গ্রাম থেকে আসা বিভিন্ন দপ্তরে সেবা প্রার্থীদের জন্য উপজেলা পরিষদের সামনে গাছের নিচে ৫টি গোলঘর করে ‘সেবা চত্ত্বর’ নির্মাণ করেন।প্রতিটি গোলঘরে ৭/৮ জন করে মানুষ বসতে পারেন। উপজেলা সদরে যাত্রীদের জন্য একটি যাত্রী ছাউনি ‘নিকুঞ্জ’ও সাধারণ মানুষের হেঁটে চলার জন্য থানার সামনে থেকে উপজেলা পরিষদের শেষ সীমানা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেছেন।

পাহাড় বিলাস গড়ে তোলার পর পর্যটকদের উৎসাহে উপজেলা সদরের পাশে করচার হাওরের পরিবেশ উপভোগ করার জন্য পানির উপরে ভাসমান দুইটি গোলঘর নির্মাণ করে ‘হাওর বিলাস’ প্রতিষ্ঠা করেন।উপজেলার প্রবেশদ্বার কারেন্টেরের বাজার এলাকায় করচার হাওরের বোয়াল মাছের ন্যায় মাছের ভাস্কর্য দিয়ে ‘বোয়াল চত্ত্বর’ ও বিশ্বম্ভরপুর বাজারে করচার হাওরের নামে করচারপাড় মার্কেট নির্মাণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

গত ২৮ জুলাই/২০২১ করচার হাওর পাড় সংলগ্ন ভাসমান ব্রীজশেড হাওর বিলাস,বোয়াল চত্ত্বর’ ও করচারপাড় মাকের্টের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদি উর রহিম জাদিদ এর সার্বিক পরিচলনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: সফর উদ্দিন,সহকারি কমিশনার ভূমি আসমা বিনতে রফিক সহ সর্বস্থরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি হাওর বিলাসের পাশে দর্শনাথীদের খাবারের জন্য হাওর ভীউ ক্যাফে নামে একটি দোকান চালু করা হয়েছে।হাওর বিলাসকে আরো আকর্ষনীয় করতে হাওর বিলাস সংলগ্ন জলাশয়ে ৩টি ফোয়ারা স্থাপন করা হয় এবং লাল শাপলা লাগানো হয় ও দুই পাশে কাশবন লাগানো হয়।বিভিন্ন হাট বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ছোট ছোট দোকান ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয় এবং উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন রাস্তাও সংস্কার করা হচ্ছে।

তিনি উপজেলা সদর জামে মসজিদ ও উপজেলা সদর কৃষ্ণনগর পূজা মন্দির উন্নয়নের চেষ্টা করবেন বলেও জানা যায়।এছাড়াও উপজেলাকে আরো দৃষ্টি নন্দন নান্দনিক করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।সর্বপরি উপজেলায় উয়ন্ননের জোয়াড় বইছে। ফলে ছোট ছোট যান বাহন, সিএনজি, অটোরিক্সা, রিক্সা চালকদের এবং ব্যবসায়ীদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যটন প্রেমী সহ মানুষের মাঝে উৎস্যহ উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিন দিনেই মানুষের জীবন-যাত্রার মান বাড়ছে। পর্যটন স্পট স্থাপন সহ ব্যবসা ক্ষেত্রে উন্নয়ন হওয়ায় প্রতিদিন স্থানীয় সহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনাথীদের ভিড় বাড়ছে।পর্যটন স্পট গুলো প্রতিষ্টা হওয়ায় উপজেলা প্রতিটি সড়কে যান চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে।যান চলাচলে সু-শৃংখল রাখতেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজর দিচ্ছেন।বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাওর-নদীর জেলায় এই প্রথম হাওরের মাছের দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য স্থাপন করে একটি চত্ত্বরের বোয়াল চত্বর নামকরণ করেছেন। সৌন্দর্য পিপাসুরা এসব দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।এলাকার লোকজনের সুবিধার্থে হাওরের নামে একটি মার্কেট নির্মাণ করে দিয়েছেন তিনি। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে নির্মিত পলাশ বাজারে সড়কের ওয়াকওয়ে,উপজেলা সদর পয়েন্টে জয় বাংলা চত্বর ও প্রেসক্লাব সংলগ্ন শৈল্পিক ভাবে নির্মান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার গত ২৬আগষ্ট সুনামগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ এড,পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ উদ্ভোধন করেন।

তাছাড়া গত ২৩ অক্টোবর পলাশ বাজার সড়কের পয়েন্টে দর্শণীয় হাওর বৃত্ত,উপজেলা সদরে জয় বাংলা চত্বর,শহীদ মিনার,হাওর বিলাশ পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ এড,পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদি উর রহিম জাদিদ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ সফর উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার জনৈক সাংবাদিক বলেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরলস ভাবে কাজ করে উপজেলার সৌন্দর্যগুলো ফুটিয়ে তোলছেন, তিনি দৃষ্টিনন্দন কাজ করছেন ।তাঁর প্রচেষ্টায় নান্দনিকতার ছোঁয়া লেগেছে বিস্বম্ভরপুরে। হাওর বিলাস, পাহাড় বিলাসের মাধ্যমে এলাকার লোকজন হাওর ও পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন।দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন বেড়াতে।উপজেলা সদরে বিকালের পর আর মানুষজন দেখা যেত না,যেন ভুতরে বাড়ির মত পড়ে থাকত। হাওর বিলাস স্থাপন সহ প্রতিটি রাস্তা ও স্থাপনায় সাদা,নীল, হলুদ বাতি দিয়ে আলোকিত করায় মানুষের মাঝে যেন নতুন উদ্যোমতা ফিরে এসেছে,এখন রাত ৯ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন স্থানের মানুষজন আসা যাওয়া করেন।প্রতিদিন হাওর বিলাসে,পাহাড় বিলাশস স্থানীয় সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার আবালবৃদ্ব সর্বস্থরের প্রকৃতি পর্যটন প্রেমী লোকজন আসা যাওয়া করেন।

সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা কবি কুমার সৌরভ বলেন,‘সদিচ্ছা ও শিল্পমন থাকলে একটি এলাকাকে কীভাবে সুন্দর করা যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বিশ্বম্ভরপুর।বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এখানে এসেছেন মাত্র ১০ মাস।এই সময়েই তিনি উপজেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে মাথায় নিয়ে কাজ শুরু করেন। চ্যাংবিলে পাহাড়বিলাস,কারেন্টের বাজারে বোয়ালচত্ত্ব¡র,উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন করচার হাওরে হাওর বিলাস, উপজেলা পরিষদে সেবাচত্বর ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে উপজেলাকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছেন।এসবের মধ্য দিয়ে বিশ্বম্ভরপুরের চিরচারিত প্রাকৃতিক ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য এখন অনেকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।অনেকে সৌন্দর্যপিপাসু পরিব্রাজক এখন বিশ্বম্ভরপুর মুখী হয়েছেন।একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন শৈল্পিক উন্নয়ন আমাদের মুগ্ধ করেছে।সুনামগঞ্জের আনাচে কানাচে এমন বহু জায়গা রয়েছে যেগুলো নিয়ে কাজ করলে পর্যটনস্পটের প্রাপ্তি ঘটবে।যা জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের আরেকটি প্রধান খাত হওয়ার যোগ্যতা রাখে এবং বিশ্বম্ভরপুর হতে পারে এর মডেল।

জনৈক দর্শনার্থী বলেন হাওর বিলাস সংলগ্ন হাওর ভিউ ক্যাফে নামে একটি দোকান দেওয়ায় বেড়াতে এসে খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে।হাওর বিলাস, পাহাড় বিলাস,বোয়াল চত্বর সহ এ সমস্থ পর্যটন স্পট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্র পত্রিকায় মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার হওয়ায় স্থানীয় সহ দেশ বিদেশে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নাম ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে। রিক্সা শ্রমিক সমিতির মো: আলী সিএনজি চালক আব্দুছ ছাত্তার বলেন হাওর বিলাশ পাহাড় বিলাস এ গুলো স্থাপন হওয়ায় মানুষের আগমন ও চলাচল বাড়ছে। ফলে আমাদের আয় বাড়ছে। ঝাল মুড়ির ভাসমান দোকান দার দিপক সহ অনেক দোকাদাররা বলেন বেশি মানুষের আগমনে আমাদের বেছাকেনা বাড়ছে। এ সমস্থ পর্যটন স্পট হওয়ায় বেশ কিছূ বেকার ছেলেরা ফটোতুলে ভাল রোজগার করছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জীবন যাত্রার মান বাড়ছে। প্রেসক্লাব সদস্য মো: নুরুল ইসলাম বলেন সীমান্ত বর্তী পাহাড়ের পাদদেশে প্রত্যন্ত চেংবিলে পাহার বিলাস স্থাপন করায় এ অঞ্চলে পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক প্রেমী মানুষের আগমনে এলাকাটি মুখরিত হয়ে উঠছে।তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ধন্যবাদ জানান।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন,‘ মুজিব শতবর্ষের ঘর নির্মাণের স্থান বাচাই করতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরতে গিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিস্বম্ভরপুরকে দেখার সুযোগ পাই। এরপর স্থানীয় পর্যটনষ্পট গুলোর সৌন্দর্য সাধারণ মানুষের কাছে তোলে ধরতে কিছু কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখন মানুষ এসব স্পটে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসছেন। বিট্রেনের বিভিন্ন এলাকা সফরকালে সেদেশের পর্যটনষ্পট গুলো দেখে পাহাড় ও হাওর-নদীর পর্যটন বিকাশে উদ্বুদ্ধ হন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর লক্ষ্য করেছি বিকালের পর উপজেলা সদরে লোকজন থাকে না। হাওর বিলাস সহ বিভিন্ন স্পট স্থাপনের পর এখন পরিবার পরিজন সহ পর্যটন প্রিয় অনেক লোকজন আসছে।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন





পুরাতন খবর খুঁজুন

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (রাত ৪:৫৬)
  • ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি
  • ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)