২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সংবাদ শিরোনামঃ
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এমপি রনজিত সরকার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ব তেঘরিয়া বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ।  বিশ্বম্ভরপুরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন এমপি ড. মোহাম্মদ সাদিক অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ৫ম পর্যায়ের ২য় ধাপে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে চপল পুনরায় জয়ী।  তাহিরপুরে দুপুর গড়ালেও খোলা হয়নি বিদ্যালয়ের তালা সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন সহকারী শিক্ষক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঃ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর খোকন ও মহিলা ভাইস আইরিন বিজয়ী তাহিরপুরে ৯৮ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড,আতাউল গনি সাবেক এমপি নজির হোসেনের মৃত্যু সবাই সচেতন থাকলে দেশ এগিয়ে যাবেই- তথ্য কমিশনার প্রকৃতির সঙ্গে যারা অপকর্ম করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে–সুলতানা কামাল সুনামগঞ্জ -১ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন রনজিত সরকার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা  ইউ এন ও এর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়।  বিশ্বম্ভরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত নানান কর্মসূচিতে তাহিরপুরে বিজয় দিবস পালিত সুনামগঞ্জে বাউল কামাল পাশার ১২২তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাহিরপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত যাদুকাটা নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভাবে অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ

একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভাবে অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ

মোঃ আতিকুর রহমান,সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর তীরবর্তি গ্রাম বিনোদপুর,পনিয়াখালি,কান্দাপাড়া, রতনপুর।হাওর এলাকার মাঝামাঝি অবস্থান হওয়ায় গ্রামগুলো খুবই অবহেলিত, নেই কোন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা।অধিকাংশ মানুষই হাওর থেকে মাছ সংগ্রহ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।একদিকে নিম্নমানের জীবন ব্যবস্থা অপরদিকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে তাদের কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ।প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় গ্রামগুলোর বহু সংখ্যক শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাড়ী থেকে বিদ্যালয়ের দুরত্ব বেশি হওয়ায় শিশুরা স্কুলে যেতে চায় না বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।ফলে এসব শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকায় পড়েছেন অভিভাবকরা। তারা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে,৪টি গ্রামে প্রায় পাচশতাধিক পরিবারের বসবাস। পরিবারগুলোতে ৫-১০ বছর বয়সী শিশু রয়েছে প্রায় তিনশতাধিক। এলাকাটির পশ্চিম-উত্তরে চার কিলোমিটার দুরে বীরেন্দ্রনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিমে টাঙ্গুয়ার হাওরের অপর পাড়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরবর্তি ইন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,পূর্ব দিকে এরালিয়াকোনা হাওরের অপর পাড়ে মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পূর্ব-উত্তর দিকে ৫ কিলোমিটার দূরবর্তি রঙ্গাছড়া নদীর অপর পাড়ে সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত।গ্রামগুলো থেকে স্কুল গুলোর দুরত্ব বেশি হওয়ায় বহু সংখ্যক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলে অভিভাবকরা জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার ধরনা দিয়ে শুধু আশ্বাসই পেয়েছেন। বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।এতে ওই চার গ্রামের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে দূরবর্তী বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া করছে। দূরবর্তী এলাকায় এবং হাওর তীরবর্তি হওয়ায় বর্ষাকালে নৌকায় এবং হেমন্তকালে পায়ে হেটে যেতে হচ্ছে চার কিলোমিটার দূরবর্তি বীরেন্দ্রনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যার দরুন অনেক শিক্ষার্থীই ঝরে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার অনীহা বাড়তে শুরু করেছে দিনের পর দিন। এতে অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,স্থানীয় কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিনোদপুর গ্রামের এনামুল হক ২০০৪ সালের চৌঠা সেপ্টেম্বর একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য তেত্রিশ শতক জায়গা এনামপুর ও বিনোদপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে সাফ কবলা করে দেন যার দলিল নাম্বার-৩৩৮০। পরবর্তিতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এখানে একটি অবকাঠামো নির্মান করে এনামপুর ও বিনোদপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামকরন করা হয়।বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০০৫ সালের ১লা জানুয়ারি বিনোদপুর গ্রামের মোঃ সাজল হকের ছেলে শিক্ষানুরাগী জহিরুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে আরো তিনজন সহকারি শিক্ষিকা নিয়ে বিনা বেতনে এলাকার কোমলমতি শিশুদের পাঠদান শুরু করেন। এভাবে দুই বছর চলার পর গ্রামবাসীর উদ্যোগে একটি স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠন করে ২৫/০৯/২০০৭ ইং সালে জহিরুল ইসলামকে প্রধান শিক্ষক করে তিনজন সহকারি শিক্ষিকা স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১০ সালে এফআইভিডিবির সহযোগীতায় নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক অনুদানে ১২লক্ষ ৭২ হাজার তিনশত পাচ টাকা ব্যায়ে একটি স্কুল ভবন নির্মান করে দেওয়া হয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত গ্রামগুলোর সর্বসাধারনের অর্থায়নে একজন শিক্ষককে নিয়মিত বেতন প্রদান করা হয়। প্রধান শিক্ষকসহ বাকি দুজন নিজ এলাকার কোমলমতি শিশুদের কথা বিবেচনা করে দীর্ঘ ৭ বছর এখানে বিনা বেতনে পাঠদান করেন।পরবর্তিতে শিক্ষকদের সংসারের অভাব অনটনের কারনে বিদ্যালয়টির কার্য়ক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩ সালে সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হওয়ার সময় প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের আশায় পুনরায় চালু করেন এবং স্কুলটির জাতীয়করনের জন্য ১৮/০৫/২০১৭ ইং তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ফাইল জমা দেওয়া হয় যার ডাইরি নং-৪৪৭০ সিরিয়াল নং-৭৭। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি এলাকার লোকজনকে নিয়ে স্কুলটি জাতীয়করনের লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সহযোগীতা কামনা করেন। এ সময় সংসদ সদস্য এলাকার কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ২৬/০২/২০১৮ ইং তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি ডিও লেটার প্রেরন করেন যার ডিও নং ঃ প্রমকা/সুনাম-১/০১৩/০৭১৬/১৮ স্মারক নং ঃ প্রমকা/সসকা/০১৩/০৪৭/১৮। ডিও লেটারটিতে তিনি উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জ জেলাধীন তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ (বিশ) কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এনামপুর ও বিনোদপুর নন রেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অত্র উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। বিদ্যালয়টি ২০০৫ ইং তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। এনামপুর ও বিনোদপুর গ্রামের ০৪ (চার) কিলোমিটারের মধ্যে আর কোন বিদ্যালয় নেই। অত্র উপজেলা সনামগঞ্জ জেলার বিখ্যাত হাওর অঞ্চল নামে খ্যাত। সেই অঞ্চলটি সারাদেশের তুলনায় শিক্ষায় অনগ্রসর। দেশের বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহকে জাতীয়করণ করবেন বলে ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। তাই অত্র উপজেলার শিক্ষায় সুবিধা বঞ্চিত গণমানুষের প্রানের দাবী এনামপুর ও বিনোদপুর নন রেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করন করা হলে অত্র এলাকা শিক্ষা বৈষম্য থেকে মুক্ত হবে। অতএব, যেহেতু বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী রয়েছে তাই সুষ্ঠুভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে উক্ত বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করন করার জন্য আপনার সুদৃষ্টি কামনায় সবিনয়ে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। কিন্তু তৃতীয় ধাপেও বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ না হওয়ায় পুনরায় বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যালয়টি। প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় নিরক্ষরতা,শিশু শ্রম বাড়ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন





পুরাতন খবর খুঁজুন

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (রাত ২:২৫)
  • ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি
  • ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)